প্রিন্ট এর তারিখঃ Oct 4, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Sep 29, 2026 ইং
বটিয়াঘাটায় গোবিন্দ বাড়ৈর মৃত্যুর ১৩ দিনেও হত্যা মামলার রহস্যের জট খোলেনি

বটিয়াঘাটা উপজেলা প্রতিনিধ, প্রতিনিধি
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলা সদর ইউনিয়নের শিলিন্দামারী এলাকায় গোবিন্দ বাড়ৈ (৫৫) মৃত্যুর ঘটনায় প্রায় ১৩ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ফলে গোবিন্দ বাড়ৈর মৃত্যু স্বাভাবিক দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড—এ প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে শিলিন্দামারী এলাকার নিহত ব্যাক্তির পুকুরঘাট থেকে তাকে উদ্ধার করা হয় বলে জানা যায়। ঐদিন রাতে নেয়াত ব্যক্তিকে উদ্ধারকারীর মধ্যে একজন রয়েছে তামিম সে ভিডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, আমাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে যায় আমি যে দেখি সে ঘরের মধ্যে মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। তার মাথায় ক্ষত চিহ্ন রক্ত বের হচ্ছিল তার মেয়ে আমাকে একটি গামছা দিয়ে বলে মাথাটি বেঁধে দাও। আমি তার মাথা বেঁধে দিই। আমরা দুই তিন জনে তাকে ধরে উচু করতে না পেরে পরবর্তীতে আলামিন ও শান্সকে ডাকা হয়।
এছাড়া ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তামিম বলেন আমি ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে দেখি কাদা পানি অবস্থা। উদ্ধারকারী আলামিন বলেন," আমরা যখন নিহতের বাড়িতে যাই তখন দেখি রিপন বাড়ৈর বাড়ির মধ্য থেকে ইজিবাইকে করে অপরিচিত তিনজন ব্যক্তি বের হচ্ছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আরেকজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিহত ব্যক্তির উরুতে রক্ত, মাথায় আঘাত,পুরুসাঙ্গে রক্ত ও বিজ্র। পরে তাকে বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
তবে মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে শুরু থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের বক্তব্যে মরদেহে আঘাতের চিহ্ন, মাথায় কোপের দাগ এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে সন্দেহজনক আলামতের কথা উঠে এসেছে। এসব তথ্যের সত্যতা অবশ্য ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।আলামত সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন
ঘটনাস্থল ও গোবিন্দ বাড়ৈর বাড়িকে ঘিরেও উঠেছে নানা প্রশ্ন।তার বালিশের নিচে জমি বিক্রির ৪ লক্ষ ২৫ হাজার ২৭৩ টাকা পাওয়া যায় যা মেয়ে ও স্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন থানা পুলিশ।যেখানে স্ত্রী ও মেয়ের সাথে ভাল সম্পর্ক ছিল না,ফলে স্ত্রী কন্যা তার শশুর বাড়ি থাকতো।গোবিন্দ বাড়ৈর হত্যা নিয়ে প্রত্যাক্ষ দর্শীরা ও তার স্ত্রী কন্যার ভিন্ন বক্তব্যের কারনে স্তানীয়দের সন্দেহের আংগুলো তাদের দিকে।মামলার এজাহরে বলা হয়েছে মৃতের কন্যা একাই পুকুর ঘাট থেকে গরে নিয় আসছে।কিন্তু প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান,তারা দুই তিন জনেও জনেও উঠাতে পারেনি যার কারনে আর লোক ডেকেছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ,হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দশ দিন যেতে না যেতেই অল্প সময়ের মধ্যেই বাড়িতে লাগানো পাঁচ লক্ষ টাকার বিভিন্ন গাছ কেটে ফেলা এবং রান্নাঘরের ঝুপড়ি/ঘর ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়। এর পেছনে মৃতের সৎকারের খরচ বা পারিবারিক প্রয়োজনের কথা বলা হলেও তদন্তের দৃষ্টিকোণ থেকে এসব স্থাপনা ও বস্তু ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কি না, তা আগে পরীক্ষা করা হয়েছে কি না—সে প্রশ্নও উঠেছে।
কোনো অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বস্তু বা আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তদন্তের স্বার্থে তা সংরক্ষণ ও জব্দ করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে অপরাধের আলামত গোপন বা নষ্ট করে অপরাধীকে আইনি শাস্তি থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে কাজ করার বিষয়টিও দণ্ডনীয় হিসেবে উল্লেখ আছে।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সময় কে কোথায় ছিলেন, কার সঙ্গে কার মোবাইলে যোগাযোগ হয়েছিল, ঘটনাস্থলে কারা গিয়েছিলেন এবং মরদেহ উদ্ধারের আগে-পরে কী ঘটেছিল—এসব বিষয় মোবাইল ফোনের কললিস্ট, লোকেশন ডাটা, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি।তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সন্দেহভাজন একজন ব্যক্তির মোবাইল লোকেশন পাইকগাছা এলাকায় পাওয়া যাওয়ার তথ্য রয়েছে।প্রশ্ন কিভাবে ৩০ মিনিটের মধ্যে ঐ ব্যাক্তি মৃত গোবিন্দর কাছে পৌছায়?কিন্তু একই সময়ে তাকে বটিয়াঘাটা একটি ইট ভাটার মোড়ে থাকার কথা স্বীকার করেন নিহত ব্যক্তির মেয়ে পূর্বা। এ ক্ষেত্রে কে কেথায় ছিল সঠিক তদন্ত করলেই প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে বলে মনে করেন স্তানীয়রা।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক দেশের কথা